পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০১৮ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কবি তমাল শেখরকে দেওয়া সাক্ষাৎকার

১/ “চুম্বনে ভাঙছে রাত্রির অন্ধকার/ ঠোঁটের চাপে ভেঙে পড়ছে সঙ্ঘ, পরিবার/ পার্টি ভাঙছে, রাজ্য ভাঙছে কথায় কথায়” – ব্যক্তি থেকে সমাজ সবেতেই তুমি একটা ভাঙন দেখতে পাচ্ছ। তুমি কি হতাশ? ঠিক কীভাবে দেখছ ?   উত্তরঃ    এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে লাইনগুলির ভিন্ন ব্যাখ্যা অসম্ভব কিছু নয়। প্রসঙ্গত বলতে চাই, উদ্ধৃত অংশটি ‘ইচ্ছেপাঠ’ কাব্যগ্রন্থের দীর্ঘ কবিতাটি থেকে তুমি নিয়েছ। এই লেখাটি লেখার সময় বেশ কিছুদিন আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করছিলাম। নিজেকে আকস্মিক বলে মনে হচ্ছিল না। মহা সময়ের অংশী বলেই মনে হচ্ছিল। আমি যেন মহাজাতক। আমার পেছনে অজস্র জন্মের ইতিহাস। শিকড়েরই খোঁজ চলছিল। আবার সমসাময়িক নানা ঘটনায় আমার অস্তিত্বই যেন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছিল দিন দিন। কবিতাটি শুরুও হয়েছিল এইভাবে, ‘ বৃক্ষমূল থেকে শুরু করি প্রথম পাঠ/ বাকিসব জমা আগুনে’ । একটা অস্থিরতা অনুভব করছিলাম। ভাঙচুর শুধু যে নিজের ভেতর, তা নয়। মানুষের সৃষ্ট যাবতীয়ের ভেতরই দেখতে পাচ্ছিলাম; পুরাণ, ইতিহাস, ভূগোল, সমাজ, ধর্ম, ব্যক্তিসম্পর্ক-- সর্বত্র। একে কি নিরাশা বলা যায়! মনে হয় না। অজস্র দ্বন্দ্বের ভেতর ...

আমার কবিতা ভাবনা / অভিজিৎ চক্রবর্তী

সুর কেটে যায় । বারবার প্রবাহ কেটে যায় । ভাবি , প্রবাহ কেটে গেলে যে জেগে ওঠা হবে , তা তো হওয়া উচিত নতুনভাবে । এমনও নয় যে জেগে ওঠাটুকু নতুন হয়নি , কিন্তু তা এত ক্ষণিকের যে সন্দেহ হয় , নিজের পথ নিয়ে , ভালোবাসা নিয়ে । কী বলতে চাই আমি ? কেনো বলতে চাই ? না বললে কি আমার ব্যথা লাগে ? হ্যাঁ ব্যথা তো লাগে। কোনো কাজেই মন বসে না। রাগ উঠে যায়। এ যে নিজের অক্ষমতা তা   তো বুঝি । নিশ্চয়ই আমার সাধনায় কিছু খামতি আছে। সাধনায় খামতি বলতে জীবন লগ্নতার অভাব। শুধু খেয়ে ঘুমিয়ে যদি কাটাতে হয় তবে তো কবিতা লেখা যাবে না। এ এক অদ্ভুত খেলা। জীবনকে যাপন করতে হবে, আবার আলগা হয়ে দেখতেও হবে। যুক্ত হয়ে থাকলে তো দেখা সম্ভব নয়। এখানে মনে হয় কবিকে নিষ্ঠুর হতে হয়। যেমনভাবে অজস্র মৃত্যুর স্মৃতি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন, যেমনভাবে বোদলেয়ার জান দ্যু ভালের সম্মুখে নিজেকে ছুরিকাহত করতেও দ্বিধা করেননি, যেমনভাবে জীবনানন্দ ক্রমাগত উপেক্ষা পেতে পেতেও সরে আসেননি তার লালিত বিশ্বাস থেকে অথবা বিনয় তাচ্ছিল্য করেছিলেন যাবতীয় সুখ-ঐশ্বর্য।   এই রকম তীব্র আবেগ চাই।   মানুষের মৌলিক কিছু বিষয় আছে তার তো কোনো পরিবর্ত...

জাফর, যার কোনো উত্তরসূরী নেই/ অভিজিৎ চক্রবর্তী

কবি জাফর সাদেককে নিয়ে যখনই ভেবেছি, সকল থিওরি অর্থহীন মনে হয়েছে। কবি কি জন্মান, না হয়ে ওঠেন! এই আপাত অর্থহীন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যায় সহসা। অনুশীলনই তো একজন কবিকে সিদ্ধির কাছে নিয়ে যায়। এই অনুশীলন কখন শুরু হয়? ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই! হয়তো তা-ই। হয়তো নয়। এই সকল প্রশ্ন বারবার একটি অসমাধানযোগ্য অবস্থানে নিয়ে যায় । অনুশীলন কি সময়সাপেক্ষ বিষয়? এই অভিজ্ঞতাটি কেমন? যদি ভাবি কবি হয়ে ওঠেন, তবে ঈশ্বর বা দেবতার আসনে কবিকে বসাতে হয়। কিন্তু সেই রূপকল্প থেকে আমরা অনেকদূর সরে এসেছি । আমাদের মনোজগত আর এই বক্তব্যে সায় দেয় না। যদি ভাবি অনুশীলনের কথা, তবে চমকিত হতে হয় জাফরের সুতীব্র দ্রুত অশ্বখূরের ধ্বনি শুনে। ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে আমাদের স্বপ্নের ঘেরাটোপ।   কবি জাফরের কবিতা পাঠও সেই রকম একটি অস্থিরতার জগত সৃষ্টি করে ফেলে আমাদের মনে। একটা অনিশ্চয়তা। যদি ভাবি এই অস্থিরতা অনিবার্য ছিল, তবে আমাদের সাজানো সংসার, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রক্রিয়াটি প্রশ্ন-কণ্টকিত হয়ে ওঠে । বি শ্বাসের পাকাপোক্ত ভিতটি টলে যয় । এই মিথ্যাচার ও কূহকময় ধূর্ত সমাজ অস্বীকার করে এক প্রবল নৈরাজ্যের দিকে কি যেতে হবে আমাদের? তলে তলে...