পোস্টগুলি

2018 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অভিমন্যু

দরোজাকে গাছ বলে ডাকব। গাছকে দরোজা। তো দরোজাকে গাছ বলে ডেকে দেখি অজস্র পাখির বাসা। কিচির মিচির। পা ঝুলিয়ে বসতেই শুনতে পেলাম পাতার মর্মর। মেঘের গর্জন। এক্ষুণি বৃষ্টি আসবে। তখনো নিচে এক দু'জন লোক ছায়া পাবে বলে বসে আছে। ভ্রম। উপরে তো মেঘ, বিদ্যুৎ। ঝড়ো হাওয়া। তাণ্ডব। গাছকে দরোজা বলে ডাকতেই খুলে গেল সব। একটার পর একটা কপাট খুলে দেখলাম শুধু বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছি। রোদ জল হাওয়া খেলে যায় এমন প্রান্তর-- খুলে খুলে খুলে খুলে খালি বাইরে বেরিয়ে পড়ছি। দিন ঢলে বিকাল হয়ে আসছে। পাখিরাও ঘরে ফিরে যাচ্ছে একে একে। আকাশের মেঘ আরও লাল হয়ে উঠেছে। বোধহয় কোথাও আগুন লেগেছে। বোধহয় কোথাও সূর্যোদয় হবে আবার। আমার আর ফিরে যাওয়া হচ্ছে না। কেবলি বাইরে-- বাইরে থেকে আরও বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছি @ অভিজিৎ চক্রবর্তী

শারীরিক/ অভিজিৎ চক্রবর্তী

ছবি
বহুদিন পর একাকীত্ব পেয়েছে সে। তা প্রায় অনেক বছর। ছোটোবেলা এমন মাঝে মাঝে ঘরে কেউ না থাকলে ন্যাঙটো হয়ে যেত সে। তারপর বিছানায় উঠে লাফ। লাফাতে লাফাতে বালিশ ছিঁড়ে যেত। তবু লাফ থামত না। সে কি মজা। আজ অনেকদিন পর এমন একাকী। উলঙ্গ হবার মত এমন একাকী। অতনুর অনেক সময়েই এই পোশাক পড়া টড়া ভালো লাগে না। এই গলায় একটা ছাগলের ল্যাজ ঝুলিয়ে এরপর মাঞ্জা মারা ঝা চকচকে শার্ট প্যান্ট পরে গাড়িতে গিয়ে বসো। এরপর যাও সোজা অফিস। সেখানে সবকিছু মাপা। চলা ফেরা। এমনকি পার্টিতে খাবার সময় মুখ বন্ধ করে চিবুতে হয়। তারপর নানাবিধ টেবিল ম্যানার। কাটা চামচ ছুরি ইত্যাদি ইত্যাদি। সে যাক এ তো অফিসের কথা। কিন্তু বাড়িতে যাকে বিয়ে করে এনেছে সে , মেয়েটি আবার সংস্কৃতিবান। অর্থাৎ ঐ আর কি গান বাজনা রবীন্দ্র রবীন্দ্র ভাব। বড়লোকের মেয়ে। কবিতা ফবিতা পড়তে পড়তে কথাগুলোও কেমন ন্যাকা ন্যাকা। পান থেকে চুন খসলে ' কী যে করনা তুমি ' বলে এমনভাবে তাকায় মনে হয় কোনো নাটকের পার্ট করছে। অতনু শরীর ভালোবাসে। সে ...

কবি তমাল শেখরকে দেওয়া সাক্ষাৎকার

১/ “চুম্বনে ভাঙছে রাত্রির অন্ধকার/ ঠোঁটের চাপে ভেঙে পড়ছে সঙ্ঘ, পরিবার/ পার্টি ভাঙছে, রাজ্য ভাঙছে কথায় কথায়” – ব্যক্তি থেকে সমাজ সবেতেই তুমি একটা ভাঙন দেখতে পাচ্ছ। তুমি কি হতাশ? ঠিক কীভাবে দেখছ ?   উত্তরঃ    এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে লাইনগুলির ভিন্ন ব্যাখ্যা অসম্ভব কিছু নয়। প্রসঙ্গত বলতে চাই, উদ্ধৃত অংশটি ‘ইচ্ছেপাঠ’ কাব্যগ্রন্থের দীর্ঘ কবিতাটি থেকে তুমি নিয়েছ। এই লেখাটি লেখার সময় বেশ কিছুদিন আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করছিলাম। নিজেকে আকস্মিক বলে মনে হচ্ছিল না। মহা সময়ের অংশী বলেই মনে হচ্ছিল। আমি যেন মহাজাতক। আমার পেছনে অজস্র জন্মের ইতিহাস। শিকড়েরই খোঁজ চলছিল। আবার সমসাময়িক নানা ঘটনায় আমার অস্তিত্বই যেন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছিল দিন দিন। কবিতাটি শুরুও হয়েছিল এইভাবে, ‘ বৃক্ষমূল থেকে শুরু করি প্রথম পাঠ/ বাকিসব জমা আগুনে’ । একটা অস্থিরতা অনুভব করছিলাম। ভাঙচুর শুধু যে নিজের ভেতর, তা নয়। মানুষের সৃষ্ট যাবতীয়ের ভেতরই দেখতে পাচ্ছিলাম; পুরাণ, ইতিহাস, ভূগোল, সমাজ, ধর্ম, ব্যক্তিসম্পর্ক-- সর্বত্র। একে কি নিরাশা বলা যায়! মনে হয় না। অজস্র দ্বন্দ্বের ভেতর ...

আমার কবিতা ভাবনা / অভিজিৎ চক্রবর্তী

সুর কেটে যায় । বারবার প্রবাহ কেটে যায় । ভাবি , প্রবাহ কেটে গেলে যে জেগে ওঠা হবে , তা তো হওয়া উচিত নতুনভাবে । এমনও নয় যে জেগে ওঠাটুকু নতুন হয়নি , কিন্তু তা এত ক্ষণিকের যে সন্দেহ হয় , নিজের পথ নিয়ে , ভালোবাসা নিয়ে । কী বলতে চাই আমি ? কেনো বলতে চাই ? না বললে কি আমার ব্যথা লাগে ? হ্যাঁ ব্যথা তো লাগে। কোনো কাজেই মন বসে না। রাগ উঠে যায়। এ যে নিজের অক্ষমতা তা   তো বুঝি । নিশ্চয়ই আমার সাধনায় কিছু খামতি আছে। সাধনায় খামতি বলতে জীবন লগ্নতার অভাব। শুধু খেয়ে ঘুমিয়ে যদি কাটাতে হয় তবে তো কবিতা লেখা যাবে না। এ এক অদ্ভুত খেলা। জীবনকে যাপন করতে হবে, আবার আলগা হয়ে দেখতেও হবে। যুক্ত হয়ে থাকলে তো দেখা সম্ভব নয়। এখানে মনে হয় কবিকে নিষ্ঠুর হতে হয়। যেমনভাবে অজস্র মৃত্যুর স্মৃতি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন, যেমনভাবে বোদলেয়ার জান দ্যু ভালের সম্মুখে নিজেকে ছুরিকাহত করতেও দ্বিধা করেননি, যেমনভাবে জীবনানন্দ ক্রমাগত উপেক্ষা পেতে পেতেও সরে আসেননি তার লালিত বিশ্বাস থেকে অথবা বিনয় তাচ্ছিল্য করেছিলেন যাবতীয় সুখ-ঐশ্বর্য।   এই রকম তীব্র আবেগ চাই।   মানুষের মৌলিক কিছু বিষয় আছে তার তো কোনো পরিবর্ত...