পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অভাবজাত

সমস্ত কবিতাই অভাবে শুরু যখন তোমার হাতে বই কেনার পয়সা থাকবে না ভাস্কর বিনয় অথবা জীবনানন্দ সমগ্র কেনার সামর্থ্য থাকবে না  তখনই তুমি লিখে ফেলবে রক্ত উজাড় করা নদীর মতন কবিতা লিখে ফেলবে বিপ্লবের পরের ইতিহাস  তখন তোমার হাতেই ধরা দেবে বেয়নেট এর মত ধারালো কবিতাদেহ আর তোমার মনে হবে যদি একটা চাকুরী পাই একটু অর্থনৈতিক সাফল্য পাই  ম্যাগাজিন করি গান গাই বেহালা বাজাই অথবা ছবি আঁকি কিন্তু যেই চাকরি পেলে, তুমি হলে অধীন  আর পরাধীন মানুষ কখনই তার স্বপ্নের মতন কবিতা লিখতে পারে না তোমার সেসব কবিতায় তখন কারুকৃতি গানে অনাবশ্যক কালোয়াতি ছবিতে খুব করে মানুষবিহীন প্রকৃতির কথা বললে– আসলে কৌশলী হয়ে উঠলে তুমি ক্রমাগত বসের কথা শুনে শুনে শুনে ক্লান্ত অপদস্থ বিপর্যস্ত সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সমুখে উতরোল করা নদী থাকলেও একটি ডিঙিও থাকল না ওপারে যাবার জন্য গান বাঁধাধরা  ছবি মৃতদেহের মত  বেহালা থেকে ওঠা সুরে কেবল মিশে থাকে কান্না  ম্যাগাজিন আর বিপ্লবের কথা বলে না  ভীত সন্ত্রস্ত পদে পদে অবিশ্বাসী প্রতীকে প্রতীকে ঢাকা সেসব কবিতা রাশির ভেতর থেকে একটি সকালও উঁকি দেয় না একটি পাখিও ...

কিরণ ও রবীন্দ্রনাথ

ছবি
  বিয়েপর্ব শেষ। স্ক্রিন খোলা হচ্ছে। এতদিন সমস্ত বাড়িটায় সূর্যের আলো ঢুকতে পারেনি। আজ হঠাৎ যেন বেশি আলো। আত্মীয় স্বজন যারা এসেছিলেন, ফিরে যাচ্ছেন এক এক করে। রজনীগন্ধার থ্যাতলানো কুঁড়ি পড়ে আছে যত্রতত্র। গোলাপের কয়েকটি লালকালো পাপড়ি। আজ সকাল থেকেই মুখ গোমড়া আকাশ। এখন টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। অসময়ে বৃষ্টি! ফাল্গুন মাসের শুরুতেই। সবাই বলছে আবার ঠাণ্ডা পড়বে। প্রকৃতি যে নষ্ট হয়ে গেছে, এ তার প্রমাণ। কিন্তু কিরণ বিশ্বাস করে তার মন যেমন হয়, আকাশও তেমন। আজ তার মন খারাপ।                 মন খারাপ হলে কিরণ রবীন্দ্রনাথ শোনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রবীন্দ্রনাথ তার কাছে আসে। চুপিচুপি। এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়। এইসব দিনে বর্ষায় একাকী হলে রবীন্দ্রনাথ তার পাশে বসতেন। তার সৌরকান্তি মুখ দেখে কিরণের শরীর মন শির শির করত। সে উত্তেজনা অনুভব করত। একদিন দরোজা খোলা। বাইরে বসন্তের পাগলা হাওয়া। কিরণ ঝুঁকে ঝুঁকে ক্যামিস্ট্রি পড়ছিল। দুদিন পর পরীক্ষা। খুব টেনশন। তিনি এলেন। সারাঘর কেমন একটা অপূর্ব গন্ধে ভরে গিয়েছিল। কিরণের চোখ বুজে বসেছিল। একটু পরে তিনি কাঁধে হাত রাখ...

ইনকাম কেমন

একদিন আমাকে একজন জিজ্ঞেস করল, ‘আপনে তো লেখেন’।  কাঁচুমাচু হয়ে বললাম, ‘হ চেষ্টা করি আর কি।’ বলল, কেমন ইনকাম হয়?’ বললাম, ‘মোটামুটি চইল্যা যায়।’ বলল, ভাবতাছি কিছু একটা করি।’ বললাম, ‘হুম। দারুণ ডিসিশন।’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফের বলল, ‘এই লাইনে ঢুকতে হইলে কিতা করতে লাগব?’ বললাম, ‘কিচ্ছু না খালি লেখতে লাগব।’ ‘আরে ধুর। আপনে লুকাইতাছেন। খালি লেখলে কেমনে হইব। সবে জানব কেমনে?’ বললাম, ‘ফুল ফুটলে গন্ধ এমনেই বাইরোইবো।’ তার মনে ধরলো না। ফিক ফিক হাসতে লাগল।  তারপর অনেক দিন দেখা নাই। একদিন দেখি গলায় উত্তরীয়। হাতের ফুলের তোড়া। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ। হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে বইমেলার মঞ্চ থেকে নামছেন। খুব খুশি। সঙ্গীও অনেক। খোঁপায় ফুল গুঁজে দু তিনজন সঙ্গিনীও আছে। হাতে বোধহয় মিষ্টির প্যাকেট।  বললাম, ‘আরে, দাদা দেখি, ইনকাম কেমন?’ কাঁচুমাচু মুখে বিগলিত হেসে বলল, ‘মোটামুটি চইল্যা যায়।’ #অভিজিৎচক্রবর্তী #গল্প

শারীরিক

 বহুদিন পর একাকীত্ব পেয়েছে সে। তা প্রায় অনেক বছর। ছোটোবেলা এমন মাঝে মাঝে ঘরে কেউ না থাকলে ন্যাঙটো হয়ে যেত সে। তারপর বিছানায় উঠে লাফ। লাফাতে লাফাতে বালিশ ছিঁড়ে যেত। তবু লাফ থামত না। সে কি মজা। আজ অনেকদিন পর এমন একাকী। উলঙ্গ হবার মত এমন একাকী। অতনুর অনেক সময়েই এই পোশাক পড়া টড়া ভালো লাগে না। এই গলায় একটা ছাগলের ল্যাজ ঝুলিয়ে এরপর মাঞ্জা মারা ঝা চকচকে শার্ট প্যান্ট পরে গাড়িতে গিয়ে বসো। এরপর যাও সোজা অফিস। সেখানে সবকিছু মাপা। চলা ফেরা। এমনকি পার্টিতে খাবার সময় মুখ বন্ধ করে চিবুতে হয়। তারপর নানাবিধ টেবিল ম্যানার। কাটা চামচ ছুরি ইত্যাদি ইত্যাদি। সে যাক এ তো অফিসের কথা। কিন্তু বাড়িতে যাকে বিয়ে করে এনেছে সে, মেয়েটি আবার সংস্কৃতিবান। অর্থাৎ ঐ আর কি গান বাজনা রবীন্দ্র রবীন্দ্র ভাব। বড়লোকের মেয়ে। কবিতা ফবিতা পড়তে পড়তে কথাগুলোও কেমন ন্যাকা ন্যাকা। পান থেকে চুন খসলে ' কী যে করনা তুমি' বলে এমনভাবে তাকায় মনে হয় কোনো নাটকের পার্ট করছে।          অতনু শরীর ভালোবাসে। সে ওয়াইল্ড অনেকটা। সে ওরাল সেক্স ভালোবাসে। সাফ কথা। বিদেশি ছবিগুলি দেখতে দেখতে হিট উঠে যায় তার। খাজুরাহো দেখেছে ...