অভাবজাত
সমস্ত কবিতাই অভাবে শুরু
যখন তোমার হাতে বই কেনার পয়সা থাকবে না
ভাস্কর বিনয় অথবা জীবনানন্দ সমগ্র কেনার সামর্থ্য থাকবে না
তখনই তুমি লিখে ফেলবে রক্ত উজাড় করা নদীর মতন কবিতা
লিখে ফেলবে বিপ্লবের পরের ইতিহাস
তখন তোমার হাতেই ধরা দেবে বেয়নেট এর মত ধারালো কবিতাদেহ
আর তোমার মনে হবে যদি একটা চাকুরী পাই একটু অর্থনৈতিক সাফল্য পাই
ম্যাগাজিন করি গান গাই বেহালা বাজাই অথবা ছবি আঁকি
কিন্তু যেই চাকরি পেলে, তুমি হলে অধীন
আর পরাধীন মানুষ কখনই তার স্বপ্নের মতন কবিতা লিখতে পারে না
তোমার সেসব কবিতায় তখন কারুকৃতি
গানে অনাবশ্যক কালোয়াতি
ছবিতে খুব করে মানুষবিহীন প্রকৃতির কথা বললে–
আসলে কৌশলী হয়ে উঠলে তুমি
ক্রমাগত বসের কথা শুনে শুনে শুনে ক্লান্ত অপদস্থ বিপর্যস্ত সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে
সমুখে উতরোল করা নদী থাকলেও একটি ডিঙিও থাকল না ওপারে যাবার জন্য
গান বাঁধাধরা
ছবি মৃতদেহের মত
বেহালা থেকে ওঠা সুরে কেবল মিশে থাকে কান্না
ম্যাগাজিন আর বিপ্লবের কথা বলে না
ভীত সন্ত্রস্ত পদে পদে অবিশ্বাসী
প্রতীকে প্রতীকে ঢাকা সেসব কবিতা রাশির ভেতর থেকে একটি সকালও উঁকি দেয় না
একটি পাখিও উড়ে যায় না
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন