পোস্টগুলি

কবি জাফর সাদেক, যার কোনো উত্তরসূরী নেই, অভিজিৎ চক্রবর্তী

  ক বি জাফর সাদেককে নিয়ে যখনই ভেবেছি, সকল থিওরি অর্থহীন মনে হয়েছে। কবি কি জন্মান, না হয়ে ওঠেন! এই আপাত অর্থহীন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যায় সহসা। অনুশীলনই তো একজন কবিকে সিদ্ধির কাছে নিয়ে যায়। এই অনুশীলন কখন শুরু হয়? ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই! হয়তো তা-ই। হয়তো নয়। এই সকল প্রশ্ন বারবার একটি অসমাধানযোগ্য অবস্থানে নিয়ে যায় ।  অনুশীলন কি সময়সাপেক্ষ বিষয়? এই অভিজ্ঞতাটি কেমন? যদি ভাবি কবি হয়ে ওঠেন, তবে ঈশ্বর বা দেবতার আসনে কবিকে বসাতে হয়। কিন্তু সেই রূপকল্প থেকে আমরা অনেকদূর সরে এসেছি ।  আমাদের মনোজগত আর এই বক্তব্যে সায় দেয় না।  যদি ভাবি অনুশীলনের কথা, তবে চমকিত হতে হয় জাফরের সুতীব্র দ্রুত অশ্বখূরের ধ্বনি শুনে। ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে আমাদের স্বপ্নের ঘেরাটোপ।             কবি জাফরের কবিতা পাঠও সেই রকম একটি অস্থিরতার জগত সৃষ্টি করে ফেলে আমাদের মনে। একটা অনিশ্চয়তা। যদি ভাবি এই অস্থিরতা অনিবার্য ছিল, তবে আমাদের সাজানো সংসার, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রক্রিয়াটি প্রশ্ন-কণ্টকিত হয়ে ওঠে ।  বি শ্বাসের পাকাপোক্ত ভিতটি টলে যয় ।  এই মিথ্যাচার ও কূহকময় ধূর্ত সমাজ ...
   অভিজিৎ চক্রবর্তী তমসা সিরিজ এক একা নিরক্ষরা রাত। ওড়ে বাঘছাল।  মা মা বলে ডাকে মনোহর। ভয় পেয়ে ডাকে।  বিষাদ। পংক্তির কাটা মাঠ। ফাঁকে ফাঁকে  সরোবর। তোর লীলা অবাধ। অক্ষর-শিস নাভি থেকে ওঠে  ধ্বনি তো প্রহরের প্রমাদ। লুঠ হবে গ্রহ-তারা পরমায়ু, যতি। কারক ও ক্রিয়াপদ। দুই কপালে আলোর ছিঁটে লাগে। দূর গোধূলি-মায়ার। যাও ছুটে যাও।  ছবি। স্মৃতি। দেহ ভেসে যায় কোলাহলে।  একা জলযান আসে– গোপন। লোকালয়ের। লাল নীল আলো চোখে মুখে। মাঠেই দাঁড়ালো। তমসা। নিকষ কালো– কালো তো মা-ই আমার। কান্না শুকিয়ে পাথর। পাথর তো মা-ই। পাথরের স্তন। চুষতে চুষতে স্ফূরণ তিন জলের ভিতর আর বাইর। রাস্তায়  পানের দোকানে– সব কথা জমে ক্ষীর।  নিরক্ষর চাঁদ। উদার জোছনা।  জোছনা না কাচ। পায়ে বিঁধে যায় অনুগত দিন।  দিনের ভেতর না বাহির। পাত  এই সংশয়ে বাজে বীণ                        বাড়ে ঋণ  চার রাত-সরোবর। চাঁদ নেই। তাই অন্ধ। দেখে না। কবি দেখে। কবিরা নিশাচর। নে...

বিকল্প সূত্র

তোমার সঙ্গে দেখা কোনো শরৎকালে সবাই যখন রাম-রাবণের গল্প শোনে অন্তহীনা পথের মোড়ে দাঁড়িয়েছিলে দৃশ্য-গভীর অন্তরালের প্রণয় মেনে কথার পাকে নানা রঙের শিল্প ছিল দু’ এক ফোঁটা অ...

অভিমন্যু

দরোজাকে গাছ বলে ডাকব। গাছকে দরোজা। তো দরোজাকে গাছ বলে ডেকে দেখি অজস্র পাখির বাসা। কিচির মিচির। পা ঝুলিয়ে বসতেই শুনতে পেলাম পাতার মর্মর। মেঘের গর্জন। এক্ষুণি বৃষ্টি আসবে। তখনো নিচে এক দু'জন লোক ছায়া পাবে বলে বসে আছে। ভ্রম। উপরে তো মেঘ, বিদ্যুৎ। ঝড়ো হাওয়া। তাণ্ডব। গাছকে দরোজা বলে ডাকতেই খুলে গেল সব। একটার পর একটা কপাট খুলে দেখলাম শুধু বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছি। রোদ জল হাওয়া খেলে যায় এমন প্রান্তর-- খুলে খুলে খুলে খুলে খালি বাইরে বেরিয়ে পড়ছি। দিন ঢলে বিকাল হয়ে আসছে। পাখিরাও ঘরে ফিরে যাচ্ছে একে একে। আকাশের মেঘ আরও লাল হয়ে উঠেছে। বোধহয় কোথাও আগুন লেগেছে। বোধহয় কোথাও সূর্যোদয় হবে আবার। আমার আর ফিরে যাওয়া হচ্ছে না। কেবলি বাইরে-- বাইরে থেকে আরও বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছি @ অভিজিৎ চক্রবর্তী

শারীরিক/ অভিজিৎ চক্রবর্তী

ছবি
বহুদিন পর একাকীত্ব পেয়েছে সে। তা প্রায় অনেক বছর। ছোটোবেলা এমন মাঝে মাঝে ঘরে কেউ না থাকলে ন্যাঙটো হয়ে যেত সে। তারপর বিছানায় উঠে লাফ। লাফাতে লাফাতে বালিশ ছিঁড়ে যেত। তবু লাফ থামত না। সে কি মজা। আজ অনেকদিন পর এমন একাকী। উলঙ্গ হবার মত এমন একাকী। অতনুর অনেক সময়েই এই পোশাক পড়া টড়া ভালো লাগে না। এই গলায় একটা ছাগলের ল্যাজ ঝুলিয়ে এরপর মাঞ্জা মারা ঝা চকচকে শার্ট প্যান্ট পরে গাড়িতে গিয়ে বসো। এরপর যাও সোজা অফিস। সেখানে সবকিছু মাপা। চলা ফেরা। এমনকি পার্টিতে খাবার সময় মুখ বন্ধ করে চিবুতে হয়। তারপর নানাবিধ টেবিল ম্যানার। কাটা চামচ ছুরি ইত্যাদি ইত্যাদি। সে যাক এ তো অফিসের কথা। কিন্তু বাড়িতে যাকে বিয়ে করে এনেছে সে , মেয়েটি আবার সংস্কৃতিবান। অর্থাৎ ঐ আর কি গান বাজনা রবীন্দ্র রবীন্দ্র ভাব। বড়লোকের মেয়ে। কবিতা ফবিতা পড়তে পড়তে কথাগুলোও কেমন ন্যাকা ন্যাকা। পান থেকে চুন খসলে ' কী যে করনা তুমি ' বলে এমনভাবে তাকায় মনে হয় কোনো নাটকের পার্ট করছে। অতনু শরীর ভালোবাসে। সে ...