পোস্টগুলি

অভাবজাত

সমস্ত কবিতাই অভাবে শুরু যখন তোমার হাতে বই কেনার পয়সা থাকবে না ভাস্কর বিনয় অথবা জীবনানন্দ সমগ্র কেনার সামর্থ্য থাকবে না  তখনই তুমি লিখে ফেলবে রক্ত উজাড় করা নদীর মতন কবিতা লিখে ফেলবে বিপ্লবের পরের ইতিহাস  তখন তোমার হাতেই ধরা দেবে বেয়নেট এর মত ধারালো কবিতাদেহ আর তোমার মনে হবে যদি একটা চাকুরী পাই একটু অর্থনৈতিক সাফল্য পাই  ম্যাগাজিন করি গান গাই বেহালা বাজাই অথবা ছবি আঁকি কিন্তু যেই চাকরি পেলে, তুমি হলে অধীন  আর পরাধীন মানুষ কখনই তার স্বপ্নের মতন কবিতা লিখতে পারে না তোমার সেসব কবিতায় তখন কারুকৃতি গানে অনাবশ্যক কালোয়াতি ছবিতে খুব করে মানুষবিহীন প্রকৃতির কথা বললে– আসলে কৌশলী হয়ে উঠলে তুমি ক্রমাগত বসের কথা শুনে শুনে শুনে ক্লান্ত অপদস্থ বিপর্যস্ত সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সমুখে উতরোল করা নদী থাকলেও একটি ডিঙিও থাকল না ওপারে যাবার জন্য গান বাঁধাধরা  ছবি মৃতদেহের মত  বেহালা থেকে ওঠা সুরে কেবল মিশে থাকে কান্না  ম্যাগাজিন আর বিপ্লবের কথা বলে না  ভীত সন্ত্রস্ত পদে পদে অবিশ্বাসী প্রতীকে প্রতীকে ঢাকা সেসব কবিতা রাশির ভেতর থেকে একটি সকালও উঁকি দেয় না একটি পাখিও ...

কিরণ ও রবীন্দ্রনাথ

ছবি
  বিয়েপর্ব শেষ। স্ক্রিন খোলা হচ্ছে। এতদিন সমস্ত বাড়িটায় সূর্যের আলো ঢুকতে পারেনি। আজ হঠাৎ যেন বেশি আলো। আত্মীয় স্বজন যারা এসেছিলেন, ফিরে যাচ্ছেন এক এক করে। রজনীগন্ধার থ্যাতলানো কুঁড়ি পড়ে আছে যত্রতত্র। গোলাপের কয়েকটি লালকালো পাপড়ি। আজ সকাল থেকেই মুখ গোমড়া আকাশ। এখন টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। অসময়ে বৃষ্টি! ফাল্গুন মাসের শুরুতেই। সবাই বলছে আবার ঠাণ্ডা পড়বে। প্রকৃতি যে নষ্ট হয়ে গেছে, এ তার প্রমাণ। কিন্তু কিরণ বিশ্বাস করে তার মন যেমন হয়, আকাশও তেমন। আজ তার মন খারাপ।                 মন খারাপ হলে কিরণ রবীন্দ্রনাথ শোনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রবীন্দ্রনাথ তার কাছে আসে। চুপিচুপি। এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়। এইসব দিনে বর্ষায় একাকী হলে রবীন্দ্রনাথ তার পাশে বসতেন। তার সৌরকান্তি মুখ দেখে কিরণের শরীর মন শির শির করত। সে উত্তেজনা অনুভব করত। একদিন দরোজা খোলা। বাইরে বসন্তের পাগলা হাওয়া। কিরণ ঝুঁকে ঝুঁকে ক্যামিস্ট্রি পড়ছিল। দুদিন পর পরীক্ষা। খুব টেনশন। তিনি এলেন। সারাঘর কেমন একটা অপূর্ব গন্ধে ভরে গিয়েছিল। কিরণের চোখ বুজে বসেছিল। একটু পরে তিনি কাঁধে হাত রাখ...

ইনকাম কেমন

একদিন আমাকে একজন জিজ্ঞেস করল, ‘আপনে তো লেখেন’।  কাঁচুমাচু হয়ে বললাম, ‘হ চেষ্টা করি আর কি।’ বলল, কেমন ইনকাম হয়?’ বললাম, ‘মোটামুটি চইল্যা যায়।’ বলল, ভাবতাছি কিছু একটা করি।’ বললাম, ‘হুম। দারুণ ডিসিশন।’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফের বলল, ‘এই লাইনে ঢুকতে হইলে কিতা করতে লাগব?’ বললাম, ‘কিচ্ছু না খালি লেখতে লাগব।’ ‘আরে ধুর। আপনে লুকাইতাছেন। খালি লেখলে কেমনে হইব। সবে জানব কেমনে?’ বললাম, ‘ফুল ফুটলে গন্ধ এমনেই বাইরোইবো।’ তার মনে ধরলো না। ফিক ফিক হাসতে লাগল।  তারপর অনেক দিন দেখা নাই। একদিন দেখি গলায় উত্তরীয়। হাতের ফুলের তোড়া। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ। হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে বইমেলার মঞ্চ থেকে নামছেন। খুব খুশি। সঙ্গীও অনেক। খোঁপায় ফুল গুঁজে দু তিনজন সঙ্গিনীও আছে। হাতে বোধহয় মিষ্টির প্যাকেট।  বললাম, ‘আরে, দাদা দেখি, ইনকাম কেমন?’ কাঁচুমাচু মুখে বিগলিত হেসে বলল, ‘মোটামুটি চইল্যা যায়।’ #অভিজিৎচক্রবর্তী #গল্প

শারীরিক

 বহুদিন পর একাকীত্ব পেয়েছে সে। তা প্রায় অনেক বছর। ছোটোবেলা এমন মাঝে মাঝে ঘরে কেউ না থাকলে ন্যাঙটো হয়ে যেত সে। তারপর বিছানায় উঠে লাফ। লাফাতে লাফাতে বালিশ ছিঁড়ে যেত। তবু লাফ থামত না। সে কি মজা। আজ অনেকদিন পর এমন একাকী। উলঙ্গ হবার মত এমন একাকী। অতনুর অনেক সময়েই এই পোশাক পড়া টড়া ভালো লাগে না। এই গলায় একটা ছাগলের ল্যাজ ঝুলিয়ে এরপর মাঞ্জা মারা ঝা চকচকে শার্ট প্যান্ট পরে গাড়িতে গিয়ে বসো। এরপর যাও সোজা অফিস। সেখানে সবকিছু মাপা। চলা ফেরা। এমনকি পার্টিতে খাবার সময় মুখ বন্ধ করে চিবুতে হয়। তারপর নানাবিধ টেবিল ম্যানার। কাটা চামচ ছুরি ইত্যাদি ইত্যাদি। সে যাক এ তো অফিসের কথা। কিন্তু বাড়িতে যাকে বিয়ে করে এনেছে সে, মেয়েটি আবার সংস্কৃতিবান। অর্থাৎ ঐ আর কি গান বাজনা রবীন্দ্র রবীন্দ্র ভাব। বড়লোকের মেয়ে। কবিতা ফবিতা পড়তে পড়তে কথাগুলোও কেমন ন্যাকা ন্যাকা। পান থেকে চুন খসলে ' কী যে করনা তুমি' বলে এমনভাবে তাকায় মনে হয় কোনো নাটকের পার্ট করছে।          অতনু শরীর ভালোবাসে। সে ওয়াইল্ড অনেকটা। সে ওরাল সেক্স ভালোবাসে। সাফ কথা। বিদেশি ছবিগুলি দেখতে দেখতে হিট উঠে যায় তার। খাজুরাহো দেখেছে ...

নকুল রায়, দায়বদ্ধতা থেকে যিনি কখনোই মুক্তি চাননি

ছবি
  শুরুতেই বলে রাখি কবি নকুল রায়ের সামগ্রিক কবিতাচর্চা নিয়ে কথা বলবার জন্য এই লেখা নয়। ক্ষুদ্র পরিসরে তার দীঘল কাব্যভুবনের দিকে ফিরে তাকানো সম্ভবও নয়। সম্পাদক মহাশয় অবশ্য এক্ষেত্রে সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন কবি নকুল রায়ের যেকোন পাঁচটি কবিতা নিয়ে আলাপচারিতা। সুতরাং যাবতীয় কথা পাঁচটি কবিতাকে ঘিরেই থাকা উচিত। তবে বেসুরো গায়কের গলায় যেমন সূত্রের চেয়ে ভাষ্যের দিকে, গানের চেয়ে কানে হাত চাপা দিয়ে বিপুল অঙ্গভঙ্গির দিকে ঝোঁক লক্ষ করা যায়, আশঙ্কা, আমার আলোচনাও সেই পথেই যেতে পারে। কবিতার আলোচনায় অন্ধের হস্তিদর্শন ছাড়া গতি কী! কোনো মহৎ কবিতাই তার প্রতি স্তরে, পাঠক এমনকি লেখককেও অবাধ প্রবেশের অনুমতি দেয় না। আবার যেখানে ইশারা ও ইঙ্গিতই মূল ভাষা, সেখানে প্রতিটি কথা, মত বিরুদ্ধ মত, সবই সম্ভাবনাময়। এটাই ভরসা।         এছাড়া কবিতার নির্বাচন একটা সমস্যা। কোন পাঁচটি কবিতা! কবি নকুল রায় সারাজীবনই লিখেছেন। ‘নীহারিকা’ থেকে ২০২০ সালে তার ‘কবিতা সমগ্র’ বেরিয়েছে, যাতে তার কুড়িটি কাব্যগ্রন্থ ও অনেকগুলো অগ্রন্থিত কবিতা স্থান পেয়েছে। তার প্র...

কবি জাফর সাদেক, যার কোনো উত্তরসূরী নেই, অভিজিৎ চক্রবর্তী

  ক বি জাফর সাদেককে নিয়ে যখনই ভেবেছি, সকল থিওরি অর্থহীন মনে হয়েছে। কবি কি জন্মান, না হয়ে ওঠেন! এই আপাত অর্থহীন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যায় সহসা। অনুশীলনই তো একজন কবিকে সিদ্ধির কাছে নিয়ে যায়। এই অনুশীলন কখন শুরু হয়? ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই! হয়তো তা-ই। হয়তো নয়। এই সকল প্রশ্ন বারবার একটি অসমাধানযোগ্য অবস্থানে নিয়ে যায় ।  অনুশীলন কি সময়সাপেক্ষ বিষয়? এই অভিজ্ঞতাটি কেমন? যদি ভাবি কবি হয়ে ওঠেন, তবে ঈশ্বর বা দেবতার আসনে কবিকে বসাতে হয়। কিন্তু সেই রূপকল্প থেকে আমরা অনেকদূর সরে এসেছি ।  আমাদের মনোজগত আর এই বক্তব্যে সায় দেয় না।  যদি ভাবি অনুশীলনের কথা, তবে চমকিত হতে হয় জাফরের সুতীব্র দ্রুত অশ্বখূরের ধ্বনি শুনে। ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে আমাদের স্বপ্নের ঘেরাটোপ।             কবি জাফরের কবিতা পাঠও সেই রকম একটি অস্থিরতার জগত সৃষ্টি করে ফেলে আমাদের মনে। একটা অনিশ্চয়তা। যদি ভাবি এই অস্থিরতা অনিবার্য ছিল, তবে আমাদের সাজানো সংসার, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রক্রিয়াটি প্রশ্ন-কণ্টকিত হয়ে ওঠে ।  বি শ্বাসের পাকাপোক্ত ভিতটি টলে যয় ।  এই মিথ্যাচার ও কূহকময় ধূর্ত সমাজ ...
   অভিজিৎ চক্রবর্তী তমসা সিরিজ এক একা নিরক্ষরা রাত। ওড়ে বাঘছাল।  মা মা বলে ডাকে মনোহর। ভয় পেয়ে ডাকে।  বিষাদ। পংক্তির কাটা মাঠ। ফাঁকে ফাঁকে  সরোবর। তোর লীলা অবাধ। অক্ষর-শিস নাভি থেকে ওঠে  ধ্বনি তো প্রহরের প্রমাদ। লুঠ হবে গ্রহ-তারা পরমায়ু, যতি। কারক ও ক্রিয়াপদ। দুই কপালে আলোর ছিঁটে লাগে। দূর গোধূলি-মায়ার। যাও ছুটে যাও।  ছবি। স্মৃতি। দেহ ভেসে যায় কোলাহলে।  একা জলযান আসে– গোপন। লোকালয়ের। লাল নীল আলো চোখে মুখে। মাঠেই দাঁড়ালো। তমসা। নিকষ কালো– কালো তো মা-ই আমার। কান্না শুকিয়ে পাথর। পাথর তো মা-ই। পাথরের স্তন। চুষতে চুষতে স্ফূরণ তিন জলের ভিতর আর বাইর। রাস্তায়  পানের দোকানে– সব কথা জমে ক্ষীর।  নিরক্ষর চাঁদ। উদার জোছনা।  জোছনা না কাচ। পায়ে বিঁধে যায় অনুগত দিন।  দিনের ভেতর না বাহির। পাত  এই সংশয়ে বাজে বীণ                        বাড়ে ঋণ  চার রাত-সরোবর। চাঁদ নেই। তাই অন্ধ। দেখে না। কবি দেখে। কবিরা নিশাচর। নে...